ঘোড়াঘাটে ৩৬টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পীরা
সংক্ষেপে
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ রুবানা তানজিন বলেন, ‘‘শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
- উপজেলা: ঘোড়াঘাট
- জেলা: দিনাজপুর
- বিভাগ: রংপুর
দিনাজপুরের ঘোড়ঘাটে ৩৬ টি পূজা মন্ডপে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব পালন অনুষ্ঠিত হবে। ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩ নং সিংড়া ইউনিয়নে ১৫ টি, বুলাকীপুর ইউনিয়নে ৬টি, পালশা ইউনিয়নে ৪টি ও ঘোড়াঘাট পৌরসভায় ১১ টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
অপেক্ষায় দিন গুনছে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষরা। শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা কারিগররা।
কোনো কোনো মন্ডপে প্রতিমার তৈরীর কাজ প্রায় শেষ। অক্টোবর মাসের ১৬ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সব চেয়ে বড় দুর্গোৎসব শারদীয় দূর্গাপুজা।
শারদীয় দুর্গোৎসবের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এরই মধ্যে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে উৎসবের আমেজ।
দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে কোন কোন মন্ডপে চলছে সাজসজ্জার প্রস্তুতি। আর প্রতিমা তৈরির কারিগরদের যেন দম ফেলার ফুরসত নেই। খড়, বাঁশ, মাটি, রং ও তুলির নিপুণ ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাম্বলীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার। শেষ হবে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্যদিয়ে।
সরেজমিনে ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ বাজার পূজা মন্ডপে গিয়ে দেখা যায়, পূজামণ্ডপের প্রতিমাশিল্পীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ প্রতিমার শরীরে মাটির প্রলেপ দিচ্ছেন, কেউ করছেন সূক্ষ্ম কারুকাজ। আবার কেউ ব্যস্ত দেব-দেবীর মুখাবয়ব, চোখ, চুল ও অলংকারের কাজ নিয়ে। প্রতিমার গায়ে রং লাগানোর পাশাপাশি চলছে সিংহ, অসুর, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর সাজসজ্জার কাজও।
প্রতিমাশিল্পী সুমন রায় জানান, একটি প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয় বাঁশ ও খড় দিয়ে কাঠামো তৈরির মাধ্যমে। এরপর কয়েক ধাপে মাটি দেওয়া, শুকানো, মসৃণ করা এবং রং করার কাজ সম্পন্ন করতে হয়। তিনি বলেন, ‘‘সময়মতো প্রতিমা তৈরি করে মণ্ডপে পৌঁছে দেওয়াই এখন প্রধান লক্ষ্য। শেষ সময়ে কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়।’’এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিমা তৈরীর কাজ সম্পন্ন করব।
স্থানীয় বাসিন্দা আশাপূর্ণ ব্যানার্জি বলেন, ‘‘প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন সবাই পূজার দিনগুলোর অপেক্ষায়।’’
আরেক বাসিন্দা [বিজন বিহারী বলেন, ‘‘দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়, এটি এলাকার মানুষের মধ্যে মিলন ও সম্প্রীতিরও একটি বড় উপলক্ষ।’’
পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি বিষ্ণুপদ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক স্বরূপ কুমার সাহা বলেন, ‘‘প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তার বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা সম্পন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য।’’
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ
উৎসবকে ঘিরে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হতে পারে। ফলে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা, বিদ্যুৎ সংযোগ, যান চলাচল এবং রাতের বেলায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রত্যাশা করছেন।পুজাকে কেন্দ্র করে মন্ডপে কঠোর নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে জানান প্রশাসন।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ রুবানা তানজিন বলেন, ‘‘শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা:মাহমুদ হাসান বলেন, ‘‘পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে।
পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্য,ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। আশা করছি, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ সার্বিক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবেন।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য লিখুন