দিনাজপুরে তৈয়বা মজুমদার রক্তকেন্দ্রে সাড়ে ৪ কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি হস্তান্তর
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তরের রক্ত কর্মসূচির উদ্যোগে দিনাজপুরের তৈয়বা মজুমদার রক্তকেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা মূল্যের আধুনিক রক্ত সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১টায় উপশহরস্থ তৈয়বা মজুমদার রক্তকেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির রক্তদান কর্মসূচির পরিচালক ডা. শাহানা জাফর আনুষ্ঠানিকভাবে এসব যন্ত্রপাতি রক্তকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।
পরে তিনি বক্তব্যে যন্ত্রপাতিগুলোর সঠিক ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপদ রক্তসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি দিনাজপুর ইউনিটের চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি দিনাজপুর ইউনিটের অ্যাডহক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এ কে এম আজাদ, সদস্য খালেকুজ্জামান বাবু, মো. মোকাররম হোসেন, মো. শাহিদুর ইসলাম শাহিন খান, অ্যাডভোকেট মোল্লা সাখাওয়াত হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আলহাজ মো. আবু বকর ছিদ্দীক, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ মাহবুব আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুন্না, দপ্তর সম্পাদক প্রভাষক আখতারুজ্জামান আক্তার, জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনের যুগ্ম সম্পাদক আবু তাহের আবু, তৈয়বা মজুমদার রক্তকেন্দ্রের ইনচার্জ খন্দকার সাইফুল ইসলাম, যুব রেড ক্রিসেন্ট দিনাজপুর ইউনিটের উপ-যুব প্রধান-১ মো. মেহেদী হাসানসহ রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিবৃন্দ।
রক্তকেন্দ্রে হস্তান্তর করা আধুনিক যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে একটি রেফ্রিজারেটেড সেন্ট্রিফিউজ (সেল সেপারেটর) মেশিন, ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার একটি ব্লাড রেফ্রিজারেটর, মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার একটি ব্লাড ডিপ ফ্রিজার এবং প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ। এসব যন্ত্রপাতির আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বলেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের ফলে দিনাজপুরে নিরাপদ ও মানসম্মত রক্তসেবা আরও উন্নত হবে। তিনি জানান, তৈয়বা মজুমদার রক্তকেন্দ্রে অতি শিগগিরই থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য ১০ শয্যাবিশিষ্ট একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এ লক্ষ্যে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানেরও ঘোষণা দেন তিনি।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন