১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দাবিতে দিনাজপুরে তরুণদের পদযাত্রা
১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে দিনাজপুরে জলবায়ু ধর্মঘট ও পদযাত্রা করেছেন শতাধিক তরুণ জলবায়ু কর্মী।
শুক্রবার সকাল ১০টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
“ন্যায্যতা ও নবায়নযোগ্য শক্তির পথে জীবাশ্ম জ্বালানি মুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ি একসাথে”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তরুণদের হাতে ছিল বিভিন্ন রঙিন ব্যানার ও পোস্টার। এসময় তারা “ভুয়া সমাধান নয়, নবায়নযোগ্য শক্তি চাই”, “জীবাশ্ম মুক্ত বাংলাদেশ চাই”, “সৌর শক্তি বাড়াও, দূষণ কমাও” এবং “আমার ভবিষ্যৎ, আমার অধিকার”সহ নানা স্লোগান দেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ইয়ুথনেট গ্লোবালের বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর জিলহজ্জ সরকার, দোস্ত এইড বাংলাদেশের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আব্দুল জব্বার, ইয়ুথনেট গ্লোবালের দিনাজপুর জেলা কো-অর্ডিনেটর আব্দুল আহাদ আল মামুন, ক্লিন দিনাজপুর সমাজকল্যাণ সংস্থার প্রতিনিধি রাজিউল ইসলাম রাজু, ভিএসডিএ’র প্রজেক্ট অফিসার মো. শামিম, মুক্ত চিন্তা যুব সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক লাবনী দেবনাথ, সমাজকর্মী মকিদ হায়দার, এইচএসটিইউ স্কিল ডেভেলপমেন্টের প্রেসিডেন্ট রোকসানা আফরোজ এবং দিনাজপুর জেলা সিনিয়র রোভারমেট প্রতিনিধি ওমর আলী।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কার্যকর বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তারা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান।
ইয়ুথনেট গ্লোবালের বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর জিলহজ্জ সরকার বলেন, “জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কার্যকর বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তরুণরাই এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবে।”
দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আব্দুল জব্বার বলেন, “জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।”
ইয়ুথনেট গ্লোবালের দিনাজপুর জেলা কো-অর্ডিনেটর আব্দুল আহাদ আল মামুন বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী তরুণ প্রজন্ম। নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় আমরা রাজপথে নেমেছি।”
মুক্ত চিন্তা যুব সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক লাবনী দেবনাথ বলেন, “রুফটপ সোলার ও নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো হলে একদিকে দূষণ কমবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।”
ক্লিন দিনাজপুরের প্রতিনিধি রাজিউল ইসলাম রাজু বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে উন্নয়ন হবে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই।”
সমাজকর্মী মকিদ হায়দার বলেন, “উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের দায় স্বীকার করে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে হবে।”
ভিএসডিএ’র প্রজেক্ট অফিসার মো. শামিম বলেন, “অন্তহীন মুনাফার লোভ ও ফাঁপা প্রতিশ্রুতিতে পৃথিবী আজ সংকটে। জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধ করে জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
বক্তারা আরও বলেন, সরকারের ঘোষিত ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা সময়োপযোগী হলেও এর বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রোডম্যাপ প্রয়োজন। তারা জানান, সৌর, বায়ু ও বায়োগ্যাস খাতে দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ায় সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।
তাদের মতে, ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হলে বছরে প্রায় ১ দশমিক ৫ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া রুফটপ সোলার সম্প্রসারণ, ব্যাটারি স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক যানবাহন, স্মার্ট গ্রিড ও সোলার সেচে প্রণোদনার দাবি জানান তারা।
ফ্রাইডেস ফর ফিউচার বাংলাদেশ, ইয়ুথনেট গ্লোবাল, ৩৫০ বাংলাদেশ ও মুক্ত চিন্তা যুব সেবা সংঘের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সহযোগী সংগঠন হিসেবে ছিল দোস্ত এইড বাংলাদেশ, নক্ষত্র যুব কল্যাণ সংস্থা, ভিএসডিএ, ক্লিন মসজিদ বাংলাদেশ, ক্লিন দিনাজপুর, রূপান্তর, স্নিগ্ধা ইয়ুথ উইমেন সোসাইটি, দিনাজপুর কমিউনিটি ফোরাম এবং নকশি কুঠ।
উল্লেখ্য, সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ ২০১৮ সালে স্কুলের সামনে অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’ আন্দোলনের সূচনা করেন। তার উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে তরুণদের নেতৃত্বে জলবায়ু আন্দোলনে রূপ নেয়। সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। একই দিনে দেশের ৫০টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি পালিত হয় বলে আয়োজকেরা জানান।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন