দীঘিপাড়ায় কয়লা উত্তোলন শুরু হবে কবে
সংক্ষেপে
দিনাজপুরের দীঘিপাড়া কয়লা খনি নিয়ে আলোচনা চললেও দীর্ঘদিনেও উত্তোলন শুরু হয়নি, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিয়ে উদ্বেগ।
- উপজেলা: হাকিমপুর
- জেলা: দিনাজপুর
- বিভাগ: রংপুর
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দীঘিপাড়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলন কবে শুরু হবে—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে নানা আলোচনা। খনি উন্নয়ন ও কয়লা উত্তোলনের সম্ভাব্যতা যাচাই নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা থাকলেও বাস্তবে এখনো শুরু হয়নি কয়লা উত্তোলন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
দীঘিপাড়া কয়লা খনি এলাকার বিভিন্ন স্থানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন এবং কিছু স্থানে চিহ্ন বসানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে খনি এলাকার আশপাশের গ্রাম, হাট-বাজার ও চা দোকানে কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কেউ বলছেন, কয়লা উত্তোলন হলে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আবার কেউ জমির মূল্য, বসতবাড়ি ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
জানা যায়, কয়লা অনুসন্ধান ও উত্তোলনের বিষয়ে ২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর বাংলাদেশ খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি) এবং বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী দেশের অব্যাহত জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দীঘিপাড়া কয়লা ক্ষেত্র উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রস্তাবিত দীঘিপাড়া কয়লা ক্ষেত্রের উন্নয়ন করা হলে বছরে প্রায় ৪ মিলিয়ন টন কয়লা উৎপাদন সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে উল্লেখ করা হয়। এ কয়লা দিয়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এ লক্ষ্যে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ দীঘিপাড়া কোল বেসিনের প্রায় ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় কয়লার পরিমাণ নির্ণয় এবং বেসিনের কেন্দ্রীয় অংশে (১০-১১ বর্গকিলোমিটার) ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে বছরে ৪ মিলিয়ন টন কয়লা উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়।
তবে কয়লা উত্তোলন শুরু হলে স্থানীয় মানুষের জমি ও বসতবাড়ির কী হবে—এ নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। খনি প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের নিশ্চয়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) অনুসন্ধান চালিয়ে দীঘিপাড়া কয়লা ক্ষেত্রে কয়লার সন্ধান পায়। পরবর্তী সময়ে সেখানে অনুসন্ধান ও খনন কার্যক্রম পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ কয়লার সন্ধান মেলে। দীর্ঘদিন ধরে কয়লা উত্তোলনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও এখনো তা বাস্তবে রূপ নেয়নি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এলাকার মানুষের স্বার্থ, জমির ন্যায্য মূল্য, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য লিখুন