ঘোড়াঘাটে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার : অন্ধকার ভবিষ্যতের শঙ্কায় যুবসমাজ
উত্তরের শান্ত জনপদ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার। সীমান্তঘেঁষা এলাকার ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে মাদক পাচারের পাশাপাশি স্মার্টফোনভিত্তিক অনলাইন জুয়ার প্রসার স্থানীয় যুবসমাজকে বিপথগামী করে তুলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী হিলি এলাকা দিয়ে আসা ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন ও বিভিন্ন নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ঘোড়াঘাট হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার হচ্ছে। মাদক পরিবহনে নারী ও শিশুদের ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে। তারা যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক কিংবা সিএনজিযোগে বিভিন্ন কৌশলে এসব মাদক বহন করছে।
মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে কিছু মাদক চালান জব্দ হলেও মূল চক্রের সদস্যরা অধিকাংশ সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
অন্যদিকে, অনলাইন জুয়ার বিস্তারও নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বেটিং সাইটে স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ছে। স্মার্টফোন, উচ্চগতির ইন্টারনেট ও ভিপিএন ব্যবহার করে সহজেই এসব সাইটে প্রবেশ করছে তারা।
জানা গেছে, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে কিছু এজেন্ট অর্থ লেনদেনের সুযোগ করে দিচ্ছে। ফলে অনেক পরিবার অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কিছু তরুণ জুয়ায় সর্বস্ব হারিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
সচেতন মহল বলছে, মাদক ও জুয়ার এই দ্বিমুখী প্রভাব যুবসমাজের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক জীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে বাড়ছে চুরি, ছিনতাই ও পারিবারিক অস্থিরতা।
এলাকার সচেতন নাগরিকদের দাবি—চিহ্নিত মাদক স্পটগুলোতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবৈধ লেনদেনের ওপর কঠোর নজরদারি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।
তাদের মতে, পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া ঘোড়াঘাটের এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর সামাজিক সংকট তৈরি হতে পারে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন