মূল কনটেন্টে যান
আজঃ বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ -এ ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ - ১০ রবিউস সানি ১৪৪৮

পঞ্চগড়ে গায়েবী ঝড়ে ভেঙ্গে পড়া গাছ নিয়ে প্রাণীসম্পদের আষাঢ়ে গল্প, টেন্ডারের আগেই ডালপালা উধাও

পঞ্চগড়ে গায়েবী ঝড়ে ভেঙ্গে পড়া গাছ নিয়ে প্রাণীসম্পদের আষাঢ়ে গল্প, টেন্ডারের আগেই ডালপালা উধাও

আল মাহমুদ দোলন , বোদা , পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিতঃ ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১০ সকাল আপডেটঃ ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৩ সকাল

সংক্ষেপে

পঞ্চগড়ে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের আমগাছ ঝড়ে ভাঙার দাবিতে অসঙ্গতি; ডালপালা গায়েবের ঘটনায় তদন্তের দাবি উঠেছে।

  • উপজেলা: পঞ্চগড় সদর
  • জেলা: পঞ্চগড়
  • বিভাগ: রংপুর

পঞ্চগড় সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল চত্বরে থাকা একটি বড় আকৃতির পুরনো আম গাছ গায়েবী ঝড়ে ভেঙ্গে পড়া নিয়ে প্রাণীসম্পদের আষাঢ়ে গল্প, টেন্ডারের আগেই ডালপালা উধাও, কেটে ফেলা এবং তার মূল ডালপালা গায়েব হওয়া নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।

দাপ্তরিক একটি চিঠিতে ‘ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে নষ্ট হওয়া’র দাবি করা হলেও আবহাওয়া অফিসের তথ্য ও সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর অসঙ্গতি।
​গত ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মরিয়ম রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে (স্মারক নং: ৩৩.০১.৭৭৭০.০০০.২৮.০০০.২৬-৩১৮) দাবি করা হয়, ১৯ আগস্ট ভোরবেলা প্রাকৃতিক ঝড়ে গাছটি স্বমূলে উপড়ে পড়ে এবং ডালপালা পুকুরে পড়ে পচে নষ্ট হয়ে যায়।
 গাছটির অবশিষ্ট অংশ তালিকা ভুক্তি ও মূল্য নির্ধারণের জন্য সামাজিক বন বিভাগ, দিনাজপুরকে অনুরোধ জানানো হয়।  

বিজ্ঞাপন

​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বড় আকৃতির গাছটি ঝড়ে বা ঘূন ধরে উপড়ে পড়লে টেন্ডারের পূর্বেই বড় করাত দিয়ে কেটে খন্ড করা হয়েছে। কাটা গুঁড়ি (লগ) পড়ে থাকলেও ডালপালার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
​গাছটির ডালপালা কোথায় গেল -সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মরিয়ম রহমান দাবি করেন, ডালপালা কোথায় গেছে বা কে চুরি করেছে তা তিনি বলতে পারেন না, কারণ তাদের জনবল কম। তবে জেলা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মতো সুরক্ষিত একটি সরকারি দপ্তর থেকে এত বড় গাছের ডালপালা কীভাবে রাতারাতি চুরি হয়ে যায়, তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া এর আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি উল্টো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেনো আমাকে প্যাচাচ্ছেন,  "এ বিষয়ে এত প্যাঁচানোর কী আছে?"

​এদিকে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া তথ্যে ঝড়ের কোনো সত্যতা মেলেনি। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট ওই এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ ৩৩.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বৃষ্টিপাত ছিল মাত্র ১.০ মিলিমিটার এবং বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৮ থেকে ২০ কিলোমিটার-যা কোনোভাবেই একটি বড় গাছ ভেঙে ফেলার মতো বাতাস নয় বলে জানান তেতুলিয়া আবহাওয়া কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায়। 

​দিনাজপুর অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুঠোফোনে জানান, তারা চিঠি পেয়েছেন এবং নিয়ম অনুযায়ী এগোচ্ছেন। তবে গাছের ডালপালা পঁচে যাওয়া বা গায়েব হওয়ার বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।
পঞ্চগড় বাপা সভাপতি আজহারুল ইসলাম বলেন, বিশাল আকৃতির একটি আমগাছ এবং তা রাতের আধারে ষড়যন্ত্র করে ডালপালা চুরি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি মোটেও কাম্য নয়, পঞ্চগড় জেলা শহরের চুরি হওয়ার এমন নজির খুবই কম। সেই সাথে তিনি বলেন প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে আমাদের এই প্রাকৃতিক সম্পদ। জোরালোভাবে এটার সুস্থ তদন্ত করে বিচার দাবি করেন তিনি। 

​জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম ঝড়ে গাছ পড়ে যাওয়ার কথা বললেও আবহাওয়া অফিসের তথ্যের অসঙ্গতি ও ডালপালা গায়েবের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর দেননি। বিষয়টিকে এড়িয়ে গিয়ে তিনি ক্যামেরার সামনে স্পষ্ট জানান, "ছোটখাটো বিষয় তুলে না ধরে আমাদের ভালো কাজগুলো তুলে ধরুন।"

১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড় জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়, ধারণা করা হয় সে সময়ে বিভিন্ন সরকারি প্রাঙ্গণে বিভিন্ন গাছ লাগানো হয়। ঝড় ছাড়া সরকারি চত্বরের গাছ কেটে ফেলা এবং নিরাপত্তাবেষ্টিত সরকারি অফিস থেকে ডালপালা উধাও হয়ে যাওয়ার এ ঘটনায় সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।