মূল কনটেন্টে যান
আজঃ মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ -এ ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ - ৯ রবিউস সানি ১৪৪৮

সরকার নির্ধারিত মজুরির অর্ধেকও পাচ্ছেন না খাদ্য গুদামের শ্রমিকেরা

সরকার নির্ধারিত মজুরির অর্ধেকও পাচ্ছেন না খাদ্য গুদামের শ্রমিকেরা

মোঃ নাইম শাহ্ , নীলফামারী সদর , নীলফামারী প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিতঃ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৪ দুপুর আপডেটঃ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৩ দুপুর

সংক্ষেপে

নীলফামারী খাদ্যগুদামের শ্রমিকদের অভিযোগ, নির্ধারিত মজুরির তুলনায় অর্ধেকেরও কম পারিশ্রমিক দিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করানো হচ্ছে; তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • উপজেলা: নীলফামারী সদর
  • জেলা: নীলফামারী
  • বিভাগ: রংপুর

মাথায় ৫০ কেজির বস্তা। কখনো কাঁধে খাদ্যশস্যের বোঝা। সারাদিনের হাড়ভাঙা পরিশ্রম শেষে মজুরি নিতে গিয়ে হতাশ হতে হচ্ছে নীলফামারী সদর উপজেলা খাদ্যগুদামের শ্রমিকদের। তাঁদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত পারিশ্রমিকের অর্ধেকও তাঁরা পাচ্ছেন না। পাওনা চাইতে গেলে কাজ থেকে বাদ দেওয়া ও সাময়িক বরখাস্তের হুমকিও দেওয়া হয়।
শ্রমিকদের দাবি, প্রায় চার বছর ধরে এভাবে কাজ করলেও তাঁরা ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত। দ্রুত তদন্ত করে প্রাপ্য মজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলা খাদ্যগুদামে ধান, চালসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্য লোড-আনলোডের কাজে প্রায় ৭০ জন শ্রমিক নিয়োজিত। তাঁদের পারিশ্রমিক পরিশোধের জন্য সরকার ‘খালেক এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, ধান ও গম লোড-আনলোডের জন্য সরকার নির্ধারিত টনপ্রতি ২৫০ টাকা থাকলেও তাঁদের দেওয়া হচ্ছে ১০০ টাকা। একইভাবে চাল লোড-আনলোডে টনপ্রতি ১৩০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও তাঁরা পাচ্ছেন মাত্র ৪৭ টাকা।
এ ছাড়া খাদ্যশস্যের বস্তায় স্টেনসিল মার্ক দেওয়া, ছাটাইয়ের জন্য মিলে ধান পাঠানো এবং ৫০ কেজির বস্তা থেকে ৩০ কেজির বস্তায় রূপান্তরের কাজের জন্যও আলাদা পারিশ্রমিক নির্ধারিত রয়েছে। এসব কাজের বিপরীতে নির্ধারিত পারিশ্রমিক সম্পর্কে তাঁদের জানানো হয় না বলেও অভিযোগ শ্রমিকদের।
সাজ্জাদ ইসলাম নামে এক শ্রমিক বলেন, ‘চালের বস্তা লোড-আনলোডের জন্য সরকার এক টনে ১৩০ টাকা দেয়। কিন্তু ঠিকাদার আমাদের দেন ৪৭ টাকা। এই টাকা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। ছেলেমেয়েদের ভালোভাবে পড়াশোনা করাতেও পারি না।’
তৌহিদুল হোসেন নামে আরেক শ্রমিক বলেন, ‘ন্যায্য পাওনা চাইতে গেলে সাসপেন্ড করার হুমকি দেওয়া হয়। যারা পাওনা নিয়ে কথা বলেন, তাঁদের নানা অজুহাতে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়। এ কারণে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চান না।’
নুর আলম নামে আরেক শ্রমিক বলেন,'আমাদের শ্রমিকদের সর্দার ঠিকাদারদের সঙ্গে আতাত করে আমাদের বঞ্চিত করছেন। তার বিনা ভোটে সর্দার নির্বাচিত হয়ে এখন ঠিকাদার খালেকের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই সাসপেন।'
শ্রমিকদের আরও অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা থাকলেও তাঁদের হাতে নগদ টাকা দেওয়া হয়। গোলাম রাব্বী নামে এক শ্রমিক বলেন, ‘আমাদের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। পরে ওই চেক দিয়ে টাকা তোলা হয়। আমরা কত টাকা পাই, তার হিসাবও জানি না। হাতে অল্প কিছু টাকা দেওয়া হয়।’
তবে শ্রমিকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খালেক এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী খালেকুজ্জামান খালেক। তিনি বলেন, ‘আমি শ্রমিকদের যে টাকা পাওনা, সেটাই দিই। এ বিষয়ে আমার কাছে সব প্রমাণ আছে।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এদিকে ন্যায্য পারিশ্রমিক ও পাওনা আদায়ের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন খাদ্যগুদামের শ্রমিকেরা। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নুজহাত তাসনীম আওন।

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।