উত্তরের সীমান্তবর্তী ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় জেঁকে বসেছে শীত
উত্তরের সীমান্তবর্তী কুড়িগ্রাম জেলার তিনদিকে সীমান্ত বেষ্টিত ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় জেঁকে বসেছে শীত। কনকনে মৃদু হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ জেলার নদী-তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষ। ভোর থেকে সকাল ৮.৩০মিনিট পর্যন্ত সূর্যের দেখা না পাওয়ায় আর ঘন কুয়াশা পড়ার কারণে এই উপজেলায় সব থেকে বেশি কষ্টে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষজন। হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমে যাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে জনজীবনে নেমে আসতে শুরু করেছে স্থবিরতা।
সন্ধারাত থেকেই এলাকাজুড়ে বইছে শীতল বাতাস। রাত ৯ .০০ দিকে কুয়াশার কারনে মোটরবাইকের ১০ ফিট সামনে কি আছে বোঝার উপায় থাকে না। সামনে সকালে ঘন কুয়াশায় ১০–১২ ফিট দূরের কিছু দেখা যাচ্ছে না। ফলে সকাল ৯ টা পর্যন্ত হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে দূরপাল্লার যানবাহন সহ স্থানীয় সকল যানবাহন।
আজ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৯ টায় সূর্যের দেখা মিললেও শীতের দাপট বজায় থাকছে। এতে অফিসগামী মানুষ, স্কুল কলেজে গামী ছাত্র-ছাত্রী, দিনমজুর, কৃষকসহ ছিন্নমূল নিম্নের মানুষ ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান,সকালে শীতের তীব্রতা এতটাই যে বাইরে বের হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বাইক চালক কফিল, আমিন ডাঃ ও মোজাম্মেল হক জানান সকালে বাইক নিয়ে বের হয়েছিলাম ঘনা কুয়াশার কারণে শরীর মাথা ও মুখ ভিজে গেছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও সমস্যায় পড়ছে। সকালে দোকানপাট ও হাটবাজারেও ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে।
শীতজনিত রোগ যেমন সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ বাড়তেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে। অনেকেই শীতবস্ত্রের অভাবে আগুন জ্বালিয়ে গরম নিচ্ছেন। তারা দ্রুত শীতবস্ত্র সহায়তার জন্য প্রশাসনের প্রতি অগ্রিম আহ্বান জানিয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা আরও বিস্তার লাভ করতে পারে, ফলে ভুরুঙ্গামারীতে শীতের তীব্রতা রাত থেকে বেরে সকালের দিকে তীব্রতর হতে পারে।
উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের বোরো বীজতলা তৈরীর ক্ষেত্রে বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করতে বলেছেন।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন