সালাউদ্দিন আহমেদ, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, এবারে বাংলাদেশের মানুষ ভীতি ও ফ্যাসিবাদ মুক্ত পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যে সিয়াম পালন করেছে। এবারে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে ছিলো। ঈদ যাতায়াত ভোগান্তি ছাড়াই মানুষ নিজ পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদ করতে পেরেছেন। সিয়ামের শিক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে সকলকে ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রধান অতিথি আরো বলেন, তাকওয়ার গুণ অর্জিত হলেই মানুষ সৎ হিসেবে বিবেচিত হবে। সুদ, ঘুষ, ধর্ষণ ও মাদকের ছোবল থেকে দেশ ও সমাজকে রক্ষা করতে হলে সৎ মানুষের শাসন কায়েম করতে হবে এবং কুরআনের শিক্ষা সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। কারণ কুরআনের শিক্ষা ছাড়া সৎ মানুষ তৈরি হতে পারে না। কুরআনের শিক্ষায় আলোকিত সাহাবায়ে কিরামই রসূলুল্লাহ (সা) এর যুগে শ্রেষ্ঠ মানুষ ছিলেন।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় দিনাজপুর শিশু একাডেমী মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী দিনাজপুর শহর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।
অনুষ্ঠানে স়ভাপতিত্ব করেন শহর কমিটির আমীর মাওলানা সিরাজুস সালেহীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা কমিটির আমীর অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক জেলা আমীর ও চিরিরবন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন মোল্লা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা কমিটির সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হক, সহকারী সেক্রেটারি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিবুর রহমান পলাশ, সহকারী সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম সৈকত, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা একেএম আফজালুল আনাম, জননেতা অ্যাডভোকেট মাইনুল আলম, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ভুট্টো, সদর উপজেলা কমিটির আমীর অধ্যাপক মেহরাব আলী, শহর কমিটির সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট তোজাম্মেল হক বকুল প্রফেসর ডক্টর শোয়াইবুর রহমান ও শহর কমিটির সেক্রেটারি কামরুল হাসান রাসেলসহ অন্যান্যরা।
মাওলানা আবদুল হালিম আরো বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিশু ও তরুণদেরকে কুরআনের শিক্ষা গ্রহণ ও প্রদানে অভিভাবকদেরকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রধান অতিথি আরো বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা বুকভরা আশা নিয়ে চব্বিশের গণ অভ্যুত্থান সফল করেছে ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। আগামী দিনে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে বৈষম্যমুক্ত, ইনসাফপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ চায় জনগণ। ছাত্র জনতার খুনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের দ্রুত বিচার জনগণের দাবি। সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে আরো কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে।