Home কুড়িগ্রাম চিলমারীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নান সম্পন্ন

চিলমারীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নান সম্পন্ন

চিলমারীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নান সম্পন্ন

ফয়সাল হক, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী অষ্টমী স্নান সম্পন্ন হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র স্নান উপলক্ষ্যে গত তিনদিন থেকেই চিলমারীতে শুরু হয় সাজ সাজ রব।

“হে মহা ভাগ ব্রহ্মপুত্র,হে লৌহিত্য”, তুমি আমার পাপ হরণ করো। মন্ত্র উচ্চারণ করে পূণ্যার্থীরা কৃপা চান ব্রহ্মার। স্নান উৎসবে মেতে উঠেন পূণ্যার্থীরা। গত কয়েকদিন থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পূণ্যার্থীরা ভিড় জমান উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,
জোড়গাছ গুড়াতিপাড়া টোলর মোড় বাঁধের মোড় জোড়গাছ পুরাতন বাজার, জোড়গাছ নতুন বাজার সহ চিলমারী বন্দর ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে। সড়ক পথে বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, অটো ও মোটরগাড়ি করে। নদী পথে ট্রলার ও নৌকাযোগে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে পূণ্যার্থীরা সমবেত হন ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে। উৎসব কমিটির নেতারা বলেন, এবারে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক পূণ্যার্থী যোগ দিয়েছেন স্নান উৎসবে।

চিলমারী নৌ বন্দর ঘাট থেকে জোড়গাছ পুরাতন বাজার ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার ব্যাপী ব্রহ্মপুত্র নদে এই স্নানের আয়োজন করে চিলমারী উপজেলা প্রশাসন ও পূঁজা উদযাপন কমিটি।

শনিবার ভোর ৪ টা থেকে সন্ধা ৬ টা অষ্টমী প্রহর থাকলেও স্নান করার উত্তম সময় ধরা হয়েছে শনিবার সকাল ৭টা ৩৫ মিনিট ৩ সেকেন্ড থেকে ১০টা ৩ মিনিট ৫১ সেকেন্ড পর্যন্ত। প্রায় ৫ লাখ পূণ্যার্থীর পদভারে মূখরিত হয়ে উঠেছিল চিলমারীর ব্রহ্মপুত্রের পাড়ের প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা।

সরেজমিনে, স্নান করতে আসা হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্রী রতন চন্দ্র, শ্রী সুশিল চন্দ্র, উত্তম কুমার সহ অনেকের সাথে কথা হলে তারা জানান গত বছরেও আসছিলাম এবারেও অষ্টমির স্নান করতে এসেছি এবার শান্তি পূর্ণ ভাবে স্নান করলাম। গত বছরের তুলনায় এবার অনেক লোকজন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির চিলমারী উপজেলা শাখার সভাপতি শচীন্দ্রনাথ বর্মন জানান, প্রতিবার চিলমারীতে অষ্টমির স্নান মেলায় বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দুদের সমাগম হয়। আমরা পুজা উৎযাপন পরিষদ থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করি তাদের সেবা দেয়ার জন্য। যাতে কোন ধরনের হয়রানির শিকার না হয় পূূণার্থীরা।

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও সবুজ কুমার বসাক বলেন, সরকারিভাবে অষ্টমী স্নান মেলা স্থলে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য নলকুপ স্থাপন, মহিলাদের কাপড় বদলানোর জন্য শতাধিক তাবু টাঙ্গানো হয়। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপির পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করাসহ ঝুঁকিপূর্ণ স্থান গুলোতে পুলিশী পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

Facebook Comments Box

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here