মো. তোফাজ্জল হোসেন, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
চিকিৎসক সংকটে জর্জরিত দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। ২১ জন চিকিৎসক পরিবর্তে আবাসিক মেডিকেল অফিসার সহ ৩ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে চার লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবা। এতে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় হতে ২০১৮-১৯ সালে বিশেষ পুরস্কারপ্রাপ্ত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির।
এছাড়াও প্রসূতি নারীদের স্বাভাবিক প্রসবে দৃষ্টান্ত রাখলেও জনবল সংকট সহ বিভিন্ন রোগের ঔষধে রয়েছে ঘাটতি। আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব সহ দেড় বছর ধরে নষ্ট রয়েছে আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন। ফলে উপজেলাবাসী কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জানা যায়, উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে নানা রোগে আক্রান্ত রোগীরা সেবা নিতে আসেন এ হাসপাতালে। গড়ে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৩৫০ থেকে ৪০০ জন রোগী সেবা নেওয়া সহ জরুরি বিভাগে ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী আসেন, ভর্তি থাকেন ৮০ থেকে ১০০ জন রোগী।
উপজেলার সচেতনমহল বলেন, চিকিৎসক সংকটে রোগীদের ভোগান্তি সহ চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের লম্বা লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এভাবে একটি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চলতে পারে না। তাই অতি শীঘ্রই চিকিৎসক পদায়ন সহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আফরোজ সুলতানা লুনা বলেন, হাসপাতালে মোট ৪জন স্থায়ী চিকিৎসকের মধ্যে একজন ২মাসের প্রশিক্ষণে রয়েছে। প্রেষণে সপ্তাহে ২দিন ২জন চিকিৎসক বহির্বিভাগে রোগিদের সেবা দিচ্ছেন। চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের সামলাতে খুবই সমস্যা সহ হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার পরেও রোগিদের ভোগান্তি লাঘবে আমি সহ চিকিৎসকরা সেবা চালিয়ে যাচ্ছি। ওষুধের বিষয়ে জটিলতা রয়েছে, এ জনবহুল অঞ্চলে যে পরিমাণ ওষুধ প্রয়োজন সে অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় মানুষের চাহিদা মেটানো দুষ্কর হয়ে পড়ছে।