Saturday, March 29, 2025
Homeজাতীয়দিনাজপুরে মুখোরচক খাদ্য হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে তুঁত ফল

দিনাজপুরে মুখোরচক খাদ্য হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে তুঁত ফল

- Advertisement -

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

আসতারুল আলম,দিনাজপুর প্রতিনিধি:

উপকারী হলেও শস্যের তালিকায় না থাকা তুঁত ফল দিনাজপুরে মুখরোচক খাদ্য হিসেবে মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এই ফল দিনাজপুরের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০টাকা কেজি দরে। আবার অনেকে এই তুঁত ফল বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় তুঁত বাগানে সব বয়সের শিশু.নারী পুরুষ তুঁত ফল সংগ্রহ করছেন। আবার বাজারেও গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন ফলের দোকানে এই তুঁত ফল বিক্রি হচ্ছে।
দিনাজপুর সদর উপজেলার শহরের পাশেই মাহুত পাড়ায় বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড দিনাজপুর অঞ্চলের রেশম বীজাগারের অধীনে ১২০ বিঘা জমিতে তুঁত বাগান রয়েছে। এই জমিতে রেশম পোকার খাবারের জন্য তুঁত গাছের পাতা উৎপাদন হয়ে থাকে। আর কোন নির্দেশনা না থাকায় তুঁত ফল সংগ্রহ
করা হয়না। তবে গাছে যে তুঁত ফলগুলো হয় সেগুলো পাকলে পাখি খায়, স্থানীয় ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরাও খায়। কর্মকর্তারা বলছেন,বোর্ড
থেকে এই তুঁত ফল সংগ্রহের জন্য নির্দেশনা আসলে অবশ্যই আমরা সেই নির্দেশনা পালন করব।
রবিবার সকালে দিনাজপুর সদর উপজেলার শহরের পাশেই মাহুত পাড়ায় বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড দিনাজপুর অঞ্চলের রেশম বীজাগারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় হালকা গোলাপি, লাল কিংবা কালো টসটসে গুচ্ছ ফল পেকে আছে গাছে গাছে।

খাদ্য তালিকায় না থাকলেও দিনাজপুরে মুখোরচক খাদ্য হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে তুঁত ফল: ছবি-রংপুর নিউজ।

কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশু তুঁত ফল সংগ্রহ করছেন। তারা জানান হালকা টক ও হালকা মিষ্টি স্বাদের এই ফল দেখতে যেমন আকর্ষণীয় তেমনি উপকারীও বটে। তুঁত গাছ মূলত রোপণ করা হয় রেশমের জন্য। পরিপক্ব গাছে ফল ধরলেও সেটির বাজার বা অর্থনৈতিক কোনো গুরুত্ব নেই। কৃষি
বিভাগের বিশেষজ্ঞদের মতে এই ফল নেই খাদ্য শস্যের তালিকায়ও। এদিকে শহরের সবচেয়ে বড় বাজার বাহাদুর বাজারে বিভিন্ন ফলের দোকানে এই ফল বিক্রি হতে দেখা যায়। তুঁত ফল সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে ৬০ থেকে ৮০টাকা কেজি কিনে ফল ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছে ২৫০ টাকা থেকে ৩০০টাকা
কেজি দরে।
তুঁত বাগানে গিয়ে কথা হয় তুঁত ফল সংগ্রহ করতে আসা মাদ্রাসার ছাত্র শিশু মোঃ নাজিব ও সেন্টফিলিপ্স হাইস্কুল এন্ড কলেজের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র
শাহিনের সঙ্গে। তারা জানায়, তুঁত ফল আগে তারা গাছ থেকে তুলে নিয়ে খেত। এবার ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ফল ব্যবসায়ীরা এই তুঁত ফল ৬০ থেকে ৮০টাকা কেজি কিনে নিয়ে বিক্রি করছেন। দল বেঁধে তুতঁফল সংগ্রহ করতে এসেছিল ৩বন্ধু শিশু রাফি বাপ্পী ও
নাজমুল। তারা জানায়, প্রতিদিন তারা তুতঁফল সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি
করে। বাজারে ফলের দোকানে ১০০টাকা কেজি বিক্রি করে থাকে। বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড দিনাজপুর অঞ্চলের রেশম বীজাগারের ফার্ম ম্যানেজার নুরুল হুদা বলেন, আমাদের এই নার্সারিতে রেশম পোকার খাবারের জন্য তুঁত গাছের পাতা উৎপাদন করে থাকি। তুঁত ফল নিয়ে বোর্ড থেকে কোনো ধরনের নির্দেশনা নেই। তবে গাছে যে তুঁত ফলগুলো হয় সেগুলো
পাকলে পাখি খায়, স্থানীয় মানুষও খায়। তুঁত ফল খাদ্য হিসেবে কতটুকু সম্ভাবনাময় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি
বলেন, এক সময় বাংলাদেশে তুঁত ফল সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধরনের জেলি উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। উৎপাদন খরচ এবং প্রচলন না থাকায় ভোক্তাদের চাহিদা তেমন ছিল না বললেই চলে। পরে সেই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তিনি আরও জানান, তুঁত গাছের ইংরেজি নাম মালবেরি। সাধারণত অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসে এই গাছের চারা রোপণ উপযোগী। মধ্য জানুয়ারি থেকে এই গাছে ফল ধরে। যা পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসে এক মাসের মধ্যে পাকতে শুরু করে। তুঁত ফল প্রথম অবস্থায় সবুজ, পরে হালকা
গোলাপি, লাল এবং সম্পূর্ণ পাকলে কালো রং ধারণ করে। দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক নুরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে তুঁত গাছ মূলত রেশমের গুটি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। দিনাজপুরেও একটি বাগান রয়েছে। তুঁত ফল অনেকেই খেয়ে থাকেন। তবে এটি বাংলাদেশের খাদ্য শস্যের তালিকায় নেই।

Facebook Comments Box
spot_img
এ বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -spot_img

সর্বাধিক পঠিত খবর