Home কুড়িগ্রাম কুড়িগ্রামে ৯ বসতঘরসহ গরু-ছাগল পুড়ে ছাই

কুড়িগ্রামে ৯ বসতঘরসহ গরু-ছাগল পুড়ে ছাই

কুড়িগ্রামে ৯ বসতঘরসহ গরু-ছাগল পুড়ে ছাই

অনিল চন্দ্র রায়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের চর রাজীবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের সংকর মাধবপুর বিলপাড়া এলাকায় গোয়ালঘরে কয়েলের আগুনে চার দিনমজুর পরিবারের ৯টি ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। আগুনে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ আসবাবপত্র, নগদ টাকাসহ খড়ের গাদা এবং অগ্নিদগ্ধ মারা গেছে ৫টি গরু ও ২০টি ছাগল। এতে প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো হলেন, মিজানুর রহমান, কাবেল মিয়া, আব্দুল রশিদ ও ফজল হক।

এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতেও গরুর গোয়াল ঘরে মশা তাড়ানোর জন্য কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন দিনমজুর মিজানুরের পরিবার। ঠিক রাত সাড়ে ১১টার দিকে মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখার তাপে ঘুম ভাঙ্গে তার। পরে তার চিৎকারে বাকী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসহ এলাকাবাসী আগুন নেভাতে ছুটে আসেন। মুহুর্তে আগুনের লেলিহান শিখা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে পার্শ্ববর্তী ফজল হক, কাবেল ও রশিদের বসতবাড়ীতে আগুন লাগে।

এ সময় আগুনে মিজানুরের ২টি ঘর, নগদ ৬০ হাজার টাকা পুড়ে যাওয়া সহ ১টি গরু অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। কাবেলের ৩টি ঘর পুড়ে যাওয়া সহ ২টি গরু ও ১০টি ছাগল অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। ফজল হকের ২টি ঘর সহ আব্দুল রশিদের ২টি ঘর ও ১২টি ছাগল অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। এছাড়াও প্রত্যেকের ঘরে থাকা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর ফজল হক বলেন, মিজানুর, কাবেল, রশিদসহ আমার মিলে মোট ৯টি ঘর, ২১টি ছাগল সহ অনান্য জিনিস পত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হওয়া মিজানুরের বসত বাড়ীর কোন কিছুই অস্তিত্ব নেই। আগুনে পুড়ে সর্বস্ব হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেলাম। তিনি আরও বলেন, আমরা ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি জানালে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী উপজেলার খাজার ঘাট পর্যন্ত এসে ঘুরে যায়।

স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মোছা: মিনারা বেগম বলেন, আমি ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে বিষয়টি চেয়ারম্যান সাহেবকে অবগত করেছি। পরিবারগুলো সবাই দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।

রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফজলে এলাহী জানান, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ইতোমধ্যে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন আঁকারে পাঠানো হয়েছে। আশাকরছি খুব দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে সহায়তা প্রদান করা হবে।

 

Facebook Comments Box

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here