রংপুর নিউজ ডেস্কঃ
ফিলিস্তিনের গাজায় রোববার পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। তবে ইসরায়েলের নৃশংস হামলায় বিধ্বস্ত উপত্যকাটিতে ছিল না উৎসবের আমেজ। এ দিনও সেখানে নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। মুসলিমদের খুশির দিনটিতে গাজায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ ফিলিস্তিনি।
দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে চলা হামলায় গাজায় আর কোনো মসজিদ অবশিষ্ট নেই বললেই চলে। রোববার তাই উপত্যকাটির বাসিন্দাদের ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়েছে ধ্বংস হয়ে যাওয়া মসজিদের বাইরে। আগের দিনে গাজার যেসব শিশু নতুন পোশাক পরে আনন্দ করত, তারা এখন ক্ষুধায়-আতঙ্কে কাতর। ঈদ উপলক্ষে নেই তেমন রান্নার আয়োজন।
ইসরায়েলের হামলা শুরুর আগে গাজার ফিলিস্তিনিরা ঈদের সকালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উদ্যাপন করতেন। তবে এখনকার চিত্র ভিন্ন। বহু গাজাবাসী তাঁদের পরিবারের সদস্যকে হারিয়েছেন। রোববার অনেককে দেখা যায় প্রিয়জনের কবরের পাশে। অনেকে হাজির হন হাসপাতালের মর্গে—শেষবারের মতো কাছের মানুষের মরদেহটি দেখতে।
ইসরায়েলের হামলায় গাজার বাসিন্দা আদেল আল-শায়ের তাঁর পরিবারের ২০ সদস্যকে হারিয়েছেন। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ঈদের নামাজ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, ‘এই ঈদটা কষ্টের। আমরা আমাদের ভালোবাসার মানুষগুলোকে হারিয়েছি। আমাদের সন্তান, আমাদের জীবন, আমাদের ভবিষ্যৎ—সবকিছু… আমরা তো সব হারিয়েছি।’
রোববার ঈদের নামাজ আদায় করেছেন গাজার আরেক বাসিন্দা সায়েদ আল-কুর্দ। তিনি বলেন, ‘এখানে হত্যা করা হচ্ছে। মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। সবাই ক্ষুধার্ত। আমাদের অবরোধ করে রাখা হয়েছে। শিশুদের খুশি করার জন্য শুধু আমরা বাইরে বেরিয়েছি। তবে ঈদের আনন্দের কথা বলতে গেলে—এখানে কোনো ঈদ নেই।’
২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের নৃশংসতা শুরুর পর থেকে গাজার ৩৬৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুরো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বিগত ১৭ মাসে উপত্যকাটিতে নিহত হয়েছেন ৫০ হাজার ২৭৭ জন। আহত ১ লাখ ১৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। তাঁদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ।