পঞ্চগড়ের হাড়িভাসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, তদন্তের দাবি অভিভাবকদের
পঞ্চগড়ের হাড়িভাসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে প্রত্যাশা কোচিং সেন্টারের পরিচালক আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষাপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রত্যাশা কোচিং সেন্টারে হাড়িভাসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থী কোচিং করতেন, তাদের হাতে সব বিষয়ের প্রশ্নপত্র পৌঁছে যায়। বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা চলাকালে বুঝতে পারেন বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র আগেই ফাঁস হয়েছে। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ফাঁস হওয়া এসব প্রশ্নপত্র প্রত্যাশা কোচিং সেন্টার থেকেই পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ বিষয়ে আহসান হাবিব বলেন, ম্যাডাম বিষয়টি নিজেই সমাধান করেছেন। তাই আমি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। যেকোনো তথ্য বা বক্তব্য জানতে হলে ম্যাডামের সঙ্গেই কথা বলতে হবে। ম্যাডাম ছাড়া আমি কিছু বলতে পারবো না।
হাড়িভাসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আজিজ প্রধান বলেন, বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার বিষয়টি আমরা বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করেছি। ইতোমধ্যে যে দুটি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোও নতুন প্রশ্নে পুনরায় নেওয়া হয়েছে।
তবে সাংবাদিকরা নতুন প্রশ্নপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা উপস্থাপন করতে পারেননি। পরবর্তীতে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগুলো নতুন করে এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহজাবিন মনসুর (সুইটি) বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে প্রশ্ন ফাঁসের একটি ঘটনা ঘটেছে। বাংলা প্রথম দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার পরই আমরা বিষয়টি অনুধাবন করি। যাচাই বাছাই করে যারা এ ঘটনায় জড়িত ছিল, তাদের ডেকে সমস্যাটি মিমাংসা করেছি।
সাংবাদিকদের আর্থিক প্রলোভনের বিষয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা বিষয়টি জানতে দূর থেকে কষ্ট করে আমাদের বিদ্যালয়ে আসলে আমি তাদের সৌজন্যবশত চা খাওয়ার খরচ দিতে চেয়েছিলাম মাত্র।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুল কবির মো. কামরুল হাসান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আগে আমার জানা ছিল না। আপনার কাছ থেকে জানার পরই বিষয়টি অবগত হলাম। এখনই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন