পঞ্চগড় ব্যাটালিয়ন (১৮ বিজিবি) এর সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন
পঞ্চগড় ব্যাটালিয়ন (১৮ বিজিবি) প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (০১ ডিসেম্বর) অনাড়ম্বরভাবে “সুবর্ণ জয়ন্তী” উদযাপন করেছে। দিবসটি ঘিরে ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ কেক কাটা, আলোচনা এবং প্রীতিভোজসহ নানা আয়োজন করে।
১৯৭৫ সালের ০১ ডিসেম্বর কুমিল্লা সেক্টরের আওতাধীন মহিপালের মহিপাল নামক স্থানে প্রতিষ্ঠিত পঞ্চগড় ব্যাটালিয়ন (১৮ বিজিবি) দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করে। প্রতিষ্ঠার পর ব্যাটালিয়নটি জয়লস্কর, মারিশ্যা, রংপুর, ওয়াগ্গাছড়া, কাপ্তাই, নেত্রকোনা, বলিপাড়া, চুয়াডাঙ্গা ও ছোটহরিণায় দায়িত্ব পালন শেষে ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড় সীমান্ত এলাকার দায়িত্বভার গ্রহণ করে।
বর্তমানে ব্যাটালিয়নটি ১৩৫.৫৯১ কিলোমিটার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ১৯টি বিওপি (বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট) ও ১টি আইসিপি (বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর) পরিচালনা করছে। চলতি বছর সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে বিজিবি সদস্যরা ১৬ জন আসামীসহ ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার বেশি মূল্যের চোরাচালানী পণ্য আটক করে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এছাড়া বাংলাবান্ধা আইসিপিতে প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার বিজিবি–বিএসএফ যৌথ রিট্রিট প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়, যা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। চলতি বছর রংপুর রিজিয়ন আন্তঃ ব্যাটালিয়ন ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় “চ্যাম্পিয়ন” এবং ভলিবল প্রতিযোগিতায় “রানার আপ” হওয়ার গৌরব অর্জন করে ব্যাটালিয়নটি।
সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে সোমবার দুপুর সারে ১২টায় ব্যাটালিয়ন চত্বরে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। এর আগে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালকের সৌজন্যে প্রদান করা কেক কাটা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম নাছের, পিএসসি, জি+, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও রিজিয়ন কমান্ডার (উত্তর-পশ্চিম রিজিয়ন)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্ণেল মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া, বিজিবিএম, পিএসসি, উপ-মহাপরিচালক ও সেক্টর কমান্ডার, ঠাকুরগাঁও সেক্টর।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে পঞ্চগড় ব্যাটালিয়নের অধিনায়কসহ বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের অধিনায়কগণ, পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত অতিথিরা ১৮ বিজিবির উত্তরোত্তর উন্নতি, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং দেশের প্রতি অবদানের প্রশংসা করেন। প্রীতিভোজের মাধ্যমে সুবর্ণ জয়ন্তীর কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন