দুই দিন বন্ধ থাকার পর খুলেছে নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড, কাজে ফিরছেন শ্রমিকরা
নীলফামারীর উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) টানা দুই দিন বন্ধ থাকার পর আবারও উৎপাদন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দলে দলে শ্রমিকেরা কারখানায় যোগ দেন। তবে আন্দোলনের সূত্রধর এভারগ্রিন প্রডাক্টস (বিডি) লিমিটেড এখনো বন্ধ রয়েছে। এটি আগামী শনিবার চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
ইপিজেডে এভারগ্রিন কারখানার ছাঁটাই ও বন্ধ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে হাবিব ইসলাম (২১) নামের এক শ্রমিক নিহত হন। এ ঘটনায় অন্তত ৮ জন আহত হন। ওই ঘটনার পরপরই ইপিজেডের সব কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গতকাল বুধবার বিকেল থেকে রাতে পর্যন্ত শ্রমিক, মালিকপক্ষ, বেপজা, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়। বৈঠকে বৃহস্পতিবার থেকে কারখানা চালু করার সিদ্ধান্ত হয়।
উত্তরা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেন, ‘এভারগ্রিন ছাড়া বাকি ২৪টি কারখানা আজ খুলেছে। শ্রমিকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন। এভারগ্রিন শনিবার থেকে চালু হবে।’ তিনি জানান, বর্তমানে ইপিজেডে ২৫টি কারখানায় প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক কর্মরত আছেন। আরও ছয়টি কারখানা উৎপাদনে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
আজ সকাল সাতটার দিকে ইপিজেড এলাকায় দেখা যায়, শ্রমিকেরা মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল ও পায়ে হেঁটে কারখানায় প্রবেশ করছেন। নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন।
মাজেন কারখানার শ্রমিক লিয়ন মিয়া বলেন, ‘দুই দিন পর কাজে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে। কাজ ছাড়া তো মন বসে না।’ সেকশন সেভেন কারখানার শ্রমিক আল রাফিয়া বলেন, ‘কাজ না করলে মজুরি হবে না। তাই দ্রুত কারখানা খোলা আমাদের জন্য স্বস্তির।’
জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির খায়রুল আনাম বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে এখানে আছি। পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।’
উল্লেখ্য, এভারগ্রিন কারখানায় সম্প্রতি ৫১ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়। পরে সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধের নোটিশ টাঙানো হয়। বেতন-ভাতা ছাড়া হঠাৎ এ সিদ্ধান্তে শ্রমিকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার সকালে ফটকের সামনে অবস্থান নেন। তাঁদের সরাতে গেলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে গুলিতে নিহত হন হাবিব ইসলাম। তিনি ইকু ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি নিটিং কারখানার শ্রমিক ছিলেন। তাঁর বাড়ি জেলা সদরের সংগলশী ইউনিয়নের কাজীরহাট মাছিরচাক গ্রামে। বাবার নাম দুলাল হোসেন।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন