বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন, নথি দিতে নীরব কর্তৃপক্ষ
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিয়োগ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি জানতে একাধিকবার লিখিতভাবে যোগাযোগ করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো ডকুমেন্ট ও তথ্য সরবরাহ করেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান একটি নিয়োগ পরীক্ষার ভাইবা ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠতে থাকলে একজন সাংবাদিক হিসেবে প্রকৃত তথ্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসে লিখিতভাবে তথ্য চাওয়া হয়।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনিক দপ্তরগুলোর ভূমিকা, মূল্যায়ন কাঠামো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া জানার উদ্দেশ্যেই এই যোগাযোগ করা হয়।
এর জবাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, উক্ত নিয়োগ বোর্ডে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস বিভাগের পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে বোর্ড সদস্যদের নাম জানানো হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাকি গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো সম্পর্কে কোনো লিখিত ব্যাখ্যা বা নথি সরবরাহ করা হয়নি।
বিশেষ করে প্রার্থীদের শর্টলিস্টিং কোন দপ্তর থেকে এবং কোন পদ্ধতিতে করা হয়েছে, ভাইবার নম্বর বণ্টন কাঠামো কী ছিল, ভাইবা শেষে কীভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, সেই সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণী কোথায় সংরক্ষিত রয়েছে এবং চূড়ান্তভাবে নিয়োগ অনুমোদন ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট অর্ডার কোন কর্তৃপক্ষ ইস্যু করবে—এসব বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে একই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে পুনরায় লিখিত অনুস্মারক পাঠানো হয়। কিন্তু ওই অনুস্মারকের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আর কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এমনকি বিষয়টি উপাচার্য কার্যালয়ের নজরে আনা হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিস্তারিত নথি বা ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়া কেবল একটি প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি সরাসরি জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। এ ধরনের নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে শুধু নিয়োগ বোর্ডে কারা ছিলেন তা জানানো যথেষ্ট নয়। বরং প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ—শর্টলিস্টিং, মূল্যায়ন, নম্বর প্রদান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নিয়োগ আদেশ—সবকিছুই লিখিতভাবে স্পষ্ট ও নথিভুক্ত থাকা প্রয়োজন।
তারা আরও মনে করেন, এসব তথ্য প্রকাশ না হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে যখন লিখিতভাবে বারবার তথ্য চাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব থাকে, তখন সেই নীরবতাও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে একাধিকবার বক্তব্য চাওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে যদি এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য বা প্রয়োজনীয় নথি সরবরাহ করে, তা সংবাদে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া যদি নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য সঠিক হয়, তাহলে হুমকিতে পড়বে শিক্ষা ব্যবস্থাপনা।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন