কারেন্ট পোকা দমন কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি কৃষকদের সচেতন করতে সুন্দরগঞ্জে একদিনের কর্মশালা
চলতি আমন মৌসুমে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধানক্ষেতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বাদামি ঘাস ফড়িং বা কারেন্ট পোকা। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক বিঘা জমির ফসল ধ্বংস করতে সক্ষম এই পোকা। এ অবস্থায় কৃষকদের সচেতন করতে ও দমন কার্যক্রম জোরদার করতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে একদিনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১২ অক্টোবর) উপজেলার বামনডাঙ্গা ব্লকে আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ.ন.ম শিবলী সাদিক। কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সানি ইসলাম।

কর্মশালায় কৃষকদের কারেন্ট পোকার জীবচক্র, আক্রমণের ধরন, এবং দমন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়— সময়মতো কীটনাশক প্রয়োগ, জমিতে পানি ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখা এবং আক্রান্ত জমি দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার।
আ.ন.ম শিবলী সাদিক বলেন, “আমন মৌসুমে কম বৃষ্টি ও দীর্ঘ খরার কারণে ধানক্ষেতে বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গের আক্রমণ বেড়েছে। তার ওপর নতুন করে কারেন্ট পোকার আক্রমণে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “ধানের কাচথোড় পর্যায়ে এই পোকার আক্রমণ ভয়াবহ হতে পারে। সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে পুরো জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১নং বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ. জব্বার মিয়া, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জামিউল চৌধুরী, মো. আ. খালেক, সহকারী শিক্ষক জামাল হাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, এবং স্থানীয় কৃষক মতলুবর রহমান, আ. রাজ্জাক ও মো. মিলন মিয়া প্রমুখ।
কৃষকরা জানান, এ বছর আমন মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না থাকায় বারবার সেচ দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। এখন কারেন্ট পোকার আক্রমণে নতুন করে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কর্মশালায় উপস্থিত কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, কৃষকদের আতঙ্কিত না হয়ে নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং দ্রুত পরামর্শ নিতে হবে, তবেই ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন